মীর্জানগর হাম্মামখানার কথা | শহিদুজ্জামান মিলন

সম্রাট আকবের শাসন আমলে (১৬৩৯-১৬৬০) সরফরাজের পর যিনি যশোহরের ফৌজদার হয়ে আসেন তার নাম মীর্জা সাফ্সিকান । তিনি পারস্যের সম্ভ্রান্ত রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন।১৬৪৯ খ্রীঃ বাংলার সুবেদার শাহ সুজার শ্যালকপুত্র মীর্জা সাফ্সিকানকে যশোহরের ফৌজদার করে পাঠানো হয়। সাফ্সিকানের সরফরাজপুরে বসবাস করা পছন্দের ছিল না। তিনি কিছুটা উত্তর দিকে যেখানে ভদ্রা নদী কপোতাক্ষ হতে বর্হিঃগত হয়ে ত্রিমোহনার সৃষ্টি করেছে ।ফলে ঐ স্থানের নাম হয়েছে ত্রিমোহিনী।সেই ত্রিমোহিনীর নিকটে তিনি বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় হতে তার নামানুসারেঐ স্থানের নাম হলো মীর্জা নগর।
ত্রিমোহিনী হতে আধা মাইল পুর্বে কেশবপুর যাওয়ার পথে এখনো নবাব বাড়ির ভগ্নাবশেষ থাকতে পারে। মূলতঃ ভদ্রা নদীর কূল থেকেই নবাব বাড়ী আরম্ভ হয়েছিল। প্রথমেই ভৃত্যগণের বসবাস উপযোগী কতকগুলো পাকা বাড়ী তার মধ্যে দিয়েই প্রবেশপথ ছিল।প্রবেশ করলেই উত্তর দক্ষিণে দুটো চত্তর ।উভয় চত্তরের মাঝে তিনটি গম্বুজ ও চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি আয়তাকার গৃহ রয়েছে।ওয়েষ্টল্যন্ড এটাকে নবাবদের বাস গৃহ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।সতীশ চন্দ্র মিত্র এটাকে নামাজের স্থান হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন। তিনি এর ভিতরের চৌবাচ্চাটিকে ওজুর স্থান হিসেবে মত দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন সকল মসজিদের মত গৃহটির পশ্চিমে কোন দরজা নাই। পূর্ব দিকে তিনটি ও দক্ষিণে একটি দরজা রয়েছে,এটি বসতঘর হলে এমন হতো না।
প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থপতিদের মতে স্থাপনাটি ছিল মোঘল হাম্মামখানা।হাম্মাম ফারসী শব্দ যার বাংলা অর্থ গোসল খানা।১৯৮০ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মীর্জা নগর হাম্মামখানা স্থাপনাটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেন।
তথ্য সূত্র :
যশোর খুলনার ইতিহাস
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বর্ণনা